দেশে-বিদেশে

মিশরের মুসাফির

SI
সাইফুল ইসলাম অক্টোবর ২০২৬ · ৩ মিনিট পাঠ
শেয়ার করুন:
মিশরের মুসাফির

মিশরে এখন প্রায় ১০টা বাজে। ইস্কান্দ্রিয়া থেকে কায়রো ফিরতেছি। এইমাত্র গাড়িতে ওঠলাম। অথচ বিকেল ৬টা থেকে মাইকিফ বা স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি। গাড়ি নাই মানে একদমই নাই। অনেকক্ষণ পরপর একটা আসে, তাও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ওঠা যায় না। আমার সাথে জামিয়া আজহারের শিক্ষার্থী নাহিদ ভাই। আগামীকাল সকাল ৭:৫০ মিনিটে আমার ফ্লাইট। ভোর চারটার মধ্যে এয়ারপোর্ট থাকা লাগবে।

দালালের খপ্পরে ও বাস্তবতার ধাক্কা

কিছু জুনাইহ বা ইজিপশিয়ান পাউন্ড বেশি খরচ করে একটা আরাবিয়ায় (স্থানীয় লোকাল মাইক্রো) ওঠলাম। এক দালাল ৩০০ পাউন্ডের ভাড়া ৫০০ চাইল। গাড়িতে ওঠিয়ে দিয়ে পাউন্ড দিতে বলল। দিলাম। গাড়ি ছাড়ার সময় জানতে পারলাম এটা আমাদের গন্তব্যের বিপরীত দিকে (সালাম) যাবে। রামসিস (কায়রোর একটু আগে) যেটা আমাদের মূল গন্তব্য, সেদিকে যাবে না।

ওদিকে ৫০০ পাউন্ড নিয়ে দালাল লোকটা উধাও। ড্রাইভারকে নাহিদ ভাই বললেন, "আপনার সামনেই তো আমাদেরকে তুলে দিল। সে আমাদের থেকে টাকাও নিল।" ড্রাইভার বলল, "আমি চিনি না তাঁকে।" আমি তাঁকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, ‘লা তা’রিফুহু?’ চিনো না তাঁরে? সে উত্তর দিয়েছে, ‘ওয়াল্লাহি লা আ’রিফুহু’—অর্থাৎ আল্লাহর কসম আমি তাঁরে চিনি না।

আর কথা বাড়ালাম না। মিশরে প্রচুর স্ক্যাম, প্রচুর ধোঁকাবাজি চলে। একটু অসতর্ক হলেই এমন কিছু ফেইস করা লাগে। দশ দিনের সফরে শেষ দিনে এসে এমন একটা ধরা খেয়েছি। বিপরীতে এখন উবার (এখানকার ভাষায়: ডিডি) অর্ডার করে প্রাইভেট কারে যাচ্ছি। ফ্লাইট ধরার আগে কিছু কেনাকাটা করতে হবে বাড়ির লোকজন ও কিছু বন্ধুদের জন্য। ১৫০০ পাউন্ড খরচ যাচ্ছে ডিডির ভাড়ায়। পকেটে টাকা আছে মাত্র ৫৫০ পাউন্ড। কী থেকে কী যে করি! কেনাকাটার জন্য বাড়তি কিছু টাকা রাখছিলাম, সেটাও গচ্ছা গেল ঘোরাফেরায়। সফরে অনেক রকমের প্রবলেম হয় যেগুলো কাউকে বোঝানো যায় না।

দূর দেশের মুসাফির

এখন গাড়িতে আছি। প্রাইভেটে বসে বসে লিখছি। সাথে ভাবছি, দূর দেশের মুসাফিরের সঙ্গে এমন না ঘটলেও হতো! যাকগে, হয়তো আল্লাহ এখানেই কোনও কল্যাণ রেখেছেন।

আমার আফসোস হচ্ছে টাকা মেরে খাওয়া মিশরী লোকটার জন্য। মাত্র ৫০০ পাউন্ড; বাংলাদেশী টাকায় ১২০০ টাকা হবে সর্বোচ্চ। এই কটা টাকার জন্য নিজের আখেরাত বরবাদ করে দিল সে। আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত দিক। আর কোনও মুসাফিরের সঙ্গে এমন আচরণ না করুক।

পরিব্রাজকের দৃষ্টি

আমার এখন কায়রো পৌঁছে বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে দেশে ফেরার ফ্লাইট ধরতে পারলেই হলো। সময়ের অভাবে সেটা যেন মিস না হয়ে যায়।

মিশরে বাটপার যেমন আছে, প্রচুর ভালো ও পরোপকারী লোকও আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এরা এত বেশি ভালো যে, এমন ব্যবহার, আতিথেয়তা ও পরোপকার আমাদের পক্ষেও সম্ভব না। আবার এর বিপরীত দিকও আছে। আল্লাহ পরীক্ষায় ফেলছেন নিশ্চয়। যাকগে, পৃথিবীর নানা প্রান্ত ঘুরে বেড়ানোটা অদ্ভুত এক আনন্দের কাজ।

SI
লেখক পরিচিতি

সাইফুল ইসলাম

শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা, লেখক, ডিজিটাল ক্রিয়েটর ও পরিব্রাজক। জীবনের গভীর উদ্দেশ্য, নৈতিক উদ্যোগ ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে কাজ করতে বিশ্বাসী।