যেকারণে পলিটিক্যাল পার্টির লিডাররা কখনই শতভাগ বেকার মুক্ত সমাজ চায় না
প্রতিটি নির্বাচনী মেনিফেস্টো কিংবা রাজনৈতিক সমাবেশে সবচেয়ে বহুল উচ্চারিত প্রতিশ্রুতির নাম হলো—"আমরা ক্ষমতায় এলে বেকারত্ব নির্মূল করব।" কিন্তু বাস্তবতার নির্মম পরিহাস হলো, তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতিতে বেকারত্ব নির্মূল না হওয়া কোনো নিছক দুর্ঘটনা বা ব্যর্থতা নয়; বরং এটি ক্ষমতা কাঠামোর একটি সুচিন্তিত নীরব প্রয়োজন।
যদি কোনো সমাজে প্রতিটি তরুণ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং নিজের ক্যারিয়ারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মিছিলের প্রথম সারিতে দাঁড়াবে কে?
যুবসমাজের সময় চুরি: ক্ষমতার সস্তা জ্বালানি
রাজনীতিতে ভিড় হলো ক্ষমতার সবচেয়ে বড় কারেন্সি। রাজপথে স্লোগান দেওয়া, প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, নির্বাচন কেন্দ্র পাহারা দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল ক্যাম্পেইন চালানো—এই প্রতিটি কাজের জন্য প্রয়োজন এমন এক বিশাল জনশক্তি যাদের হাতের সময় অফুরন্ত এবং যার আর্থিক মূল্য শূন্যের কোঠায়।
একজন তরুণ যখন বেকার থাকে:
- সে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট বা নেতার আনুগত্য স্বীকার করতে বাধ্য হয় কেবল সামান্য খাবার, চা-সিগারেটের খরচ কিংবা কোনো এক অনিশ্চিত চাকরির তদবিরের আশায়।
- তার আত্মমর্যাদাবোধ ক্রমশ ক্ষয়ে যায় এবং সে নেতার ক্ষমতার পুতুলে পরিণত হয়।
- তার বেকারত্বই তাকে রাজনৈতিক অপরাধ বা সংঘাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সবচেয়ে সহজ উপাদান বানায়।
"যে তরুণ স্বনির্ভর, তাকে হাততালি দেওয়ার কর্মী বানানো যায় না; কারণ স্বাধীন জীবিকা মানুষকে স্বাধীন চিন্তার সাহস জোগায়।"
কর্মসংস্থান তৈরি হলে নেতৃত্বের সংকট কোথায়?
১. প্রশ্ন করার যোগ্যতা তৈরি হয়: স্বাবলম্বী শিক্ষিত নাগরিক নেতার কাছে চাটুকারিতা করে না, বরং জবাবদিহিতা চায়।
২. মিছিলের কর্মী সংকট: সকাল ১০টায় রাস্তায় ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার মানুষ থাকে না যখন সবার নিজ নিজ অফিস বা কর্মশালা থাকে।
৩. ভোট কেনাবেচার সমাপ্তি: দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষকে সামান্য ভাতাদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট ব্যাংকে পরিণত করা যায়, কিন্তু সচেতন কর্মজীবী নাগরিক উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের মাপকাঠিতে বিচার করে।
উত্তরণের পথ: ব্যক্তিগত স্কিল ও আত্মমর্যাদা
আমাদের তরুণ সমাজকে বুঝতে হবে, কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার আকাশ থেকে এসে তাদের মুক্তি দেবে না। প্রকৃত মুক্তি নিহিত রয়েছে নিজের স্কিল ডেভেলপমেন্ট, উদ্যোক্তা মানসিকতা এবং নৈতিক জীবিকার মধ্যে।
যখন একজন তরুণ নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করবে, সে শুধু নিজের পরিবারের অভাব দূর করবে না—বরং সে দেশের অপরাজনীতির শৃঙ্খল থেকেও নিজেকে মুক্ত করবে।
সাইফুল ইসলাম
শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা, লেখক, ডিজিটাল ক্রিয়েটর ও পরিব্রাজক। জীবনের গভীর উদ্দেশ্য, নৈতিক উদ্যোগ ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে কাজ করতে বিশ্বাসী।